সাম্প্রতিক

প্রতিষ্ঠাতার ইতিহাস

প্রতিষ্ঠাতার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ও অবদান:

রাজর্ষী রায় বনমালী রায় বাহাদুর

জমিদার রায় বাহাদুর ও ফরিদপুর রাজবাড়ী

বনওয়ারী নগর সি,বি,পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তদানিন্তন পাবনা জেলার বিখ্যাত তাড়াশ জমিদার বংশের বড় তরফের ৯ম পুরুষ রায় বাহাদুর বনমালী রায়। বনমালী রায় একজন খ্যাতনামা দানশীল, ধার্মিক ও বিদ্যানুরাগী জমিদার ছিলেন। উল্লেখ্য যে, এই বংশের ৬ষ্ঠতম পুরুষ স্বর্গীয় রাম সুন্দরের পর বড় তরফ অপুত্রক হয়। এজন্য পরবর্তী চার পুরুষ পর্যন্ত দত্তক গ্রহণ করে বংশের অস্তিত্ব রক্ষা করা হয়েছিল। বনমালী রায় ১৮৬২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জন্ম গ্রহণ করেন।

জমিদার রায় বাহাদুর এর তাড়াশ ভবন

জমিদার রায় বাহাদুর এর তাড়াশ ভবন

বনওয়ারী লাল রায় তার প্রথমা স্ত্রীর মেজ ভাই হরিনাথ বংশীয় বনমালীকে পোষ্যপুত্র হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। ১৮৮২ খ্রিষ্টাব্দে পিতা বনওয়ারী লাল রায় মৃত্যুবরণ করলে বনমালী তার বিষয় সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হন। বনমালীর সুশাসনে জমিদারির আয় উন্নতি অনেক বৃদ্ধি পায়। তিনি বনওয়ারী নগর সি, বি, পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়টি ছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনহিতকর কাজে বহু অর্থ ও জমিদান করে খ্যাতি লাভ করেন। পাবনা এডওয়ার্ড কলেজের বনমালী ইনস্টিটিউটের ভিত্তি স্থাপন, ইলিয়ট বনমালী টেকনিক্যাল স্কুল, পাবনা মা ও শিশু কল্যাণ হাসপাতাল, তাড়াশে একটি দাতব্য চিকিৎসালয় ও একটি হাইস্কুল প্রতিষ্ঠা, পাবনা দুর্ভিক্ষ ভান্ডার (খাদ্যগুদাম), শ্যামকুন্ডের পঙ্কোদ্ধার, জগন্নাথ দেবের মন্দির সংস্কার, সিরাজগঞ্জের বি.এল স্কুলের প্রতিষ্ঠা ও সাহায্য দান এবং তারই অর্থানুকুল্যে বৈষ্ণব গ্রন্থের প্রকাশ সম্ভবপর হয়। বর্তমান ফরিদপুর রাজবাড়ীর পরিপূর্ণতাদানে তার অমর স্মৃতির সাক্ষ্য বহন করে থাকে। তার জনহিতকর কাজের জন্য বৃটিশ সরকার ১৮৯৪ খ্রিষ্টাব্দে তাকে “রায় বাহাদুর” খেতাবে ভূষিত করেন। তিনি কলকাতার নবদ্বীপের গৌরাঙ্গের পরমভক্ত ছিলেন। এজন্য নবদ্বীপের পন্ডিতমন্ডলী তাকে “রাজর্ষি” উপাধি প্রদান করেন। শেষ জীবনে তিনি কলকাতা বৃন্দাবনে অবস্থানকালে ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ নভেম্বর মতান্তরে ২৪ শে নভেম্বর ইহলোক ত্যাগ করেন।